সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শাহজাদপুরে যমুনার তান্ডব: বসতবাড়িসহ ৬ গ্রামের ৬শ একর ফসলি জমি বিলীন

গত কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়নে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনার তান্ডবে ৬টি গ্রামের বাড়িঘরসহ প্রায় ৬০০ একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

 

 

 

 

জানা যায়, চলতি বছর বর্ষা মৌসুম আসার আগে থেকেই শাহজাদপুরের সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি ও বারপাখিয়া এবং গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও বৃ-হাতকোড়া গ্রামের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে যমুনার তান্ডবে ৬ গ্রামের অন্তত ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি বিলিন হয়েছে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদ্রাসা গিলে নিয়েছে যমুনা।

 

 

 

ভুক্তভোগীরা বলেন, গত ৩ মাসে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর থেকে বারোপাখিয়া পর্যন্ত ৬টি গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক বসতবাড়ি যমুনায় বিলিন হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: নিজেদের চলাচলের রাস্তা নিজেরাই তৈরি করে নিলো লাউতা ‎গ্রামবাসী

 

ধীতপুর গ্রামে নদীভাঙনে নিঃস্ব একশো বছর বয়সী রহিতন বেগম পাঁচখানা টিনের একটি জীর্ণ ছাপড়ায় বিধবা এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন। সেখানেও নজর পড়েছে রাক্ষসী যমুনার। যে কোনো মূহুর্তে তা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেলে মা-মেয়ে কোথায় যাবেন তার নিশ্চয়তা নেই।

 

 

 

আক্ষেপের সঙ্গে রহিতন বলেন, আমার এই জীবনে সুখের দেখা পেলাম না। বাবার বাড়িতে কষ্ট করে মানুষ হয়েছি। দরিদ্র স্বামীর ঘরেও কষ্টেই কেটেছে। এখন শেষ বয়সে এসে যমুনার ভাঙ্গণে বাড়িঘর হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে আছি। থাকার মত একটি ঘরও নেই। শাকপাতা তুলে অথবা বরশিতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রির আয় দিয়েই মা-মেয়ের সংসার চলে। এ বয়সেও তার কপালে জোটেনি ভাতাকার্ড।

 

 

 

ধীতপুর মসজিদের ইমাম আব্দুল আলীম বলেন, যমুনার এই চরাঞ্চলে পটল, বেগুন, ধান, বাদাম, মাষকালাই, সরিষা, বাঙ্গী, ধনিয়াসহ সব ধরণের ফসল চাষ হয়। ফলে এ চরের কৃষকেরা বেশ ভালোভাবেই জীবনযাপন করছিলো। এখন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে তারা সবাই প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে, কি খাবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

 

 

 

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত এক বছরের ব্যবধানে দুটি ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের ২৫০ হেক্টর অর্থাৎ ৬১৭ একর ফসলি জমি যমুনায় বিলিন হয়েছে। যেসব ফসলি জমি নতুন করে ভেঙ্গে যাচ্ছে সেসব জমির মালিকেরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। তাই ভাঙ্গণরোধে কার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বলে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন রোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে যমুনার অভ্যন্তরের ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রকল্পের অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

শাহজাদপুরে যমুনার তান্ডব: বসতবাড়িসহ ৬ গ্রামের ৬শ একর ফসলি জমি বিলীন

আপডেট টাইম : ০৭:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

গত কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়নে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনার তান্ডবে ৬টি গ্রামের বাড়িঘরসহ প্রায় ৬০০ একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

 

 

 

 

জানা যায়, চলতি বছর বর্ষা মৌসুম আসার আগে থেকেই শাহজাদপুরের সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি ও বারপাখিয়া এবং গালা ইউনিয়নের মোহনপুর ও বৃ-হাতকোড়া গ্রামের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়। জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে যমুনার তান্ডবে ৬ গ্রামের অন্তত ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি বিলিন হয়েছে। সেই সঙ্গে বেশ কিছু বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদ্রাসা গিলে নিয়েছে যমুনা।

 

 

 

ভুক্তভোগীরা বলেন, গত ৩ মাসে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর থেকে বারোপাখিয়া পর্যন্ত ৬টি গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক বসতবাড়ি যমুনায় বিলিন হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: নিজেদের চলাচলের রাস্তা নিজেরাই তৈরি করে নিলো লাউতা ‎গ্রামবাসী

 

ধীতপুর গ্রামে নদীভাঙনে নিঃস্ব একশো বছর বয়সী রহিতন বেগম পাঁচখানা টিনের একটি জীর্ণ ছাপড়ায় বিধবা এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন। সেখানেও নজর পড়েছে রাক্ষসী যমুনার। যে কোনো মূহুর্তে তা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেলে মা-মেয়ে কোথায় যাবেন তার নিশ্চয়তা নেই।

 

 

 

আক্ষেপের সঙ্গে রহিতন বলেন, আমার এই জীবনে সুখের দেখা পেলাম না। বাবার বাড়িতে কষ্ট করে মানুষ হয়েছি। দরিদ্র স্বামীর ঘরেও কষ্টেই কেটেছে। এখন শেষ বয়সে এসে যমুনার ভাঙ্গণে বাড়িঘর হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে আছি। থাকার মত একটি ঘরও নেই। শাকপাতা তুলে অথবা বরশিতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রির আয় দিয়েই মা-মেয়ের সংসার চলে। এ বয়সেও তার কপালে জোটেনি ভাতাকার্ড।

 

 

 

ধীতপুর মসজিদের ইমাম আব্দুল আলীম বলেন, যমুনার এই চরাঞ্চলে পটল, বেগুন, ধান, বাদাম, মাষকালাই, সরিষা, বাঙ্গী, ধনিয়াসহ সব ধরণের ফসল চাষ হয়। ফলে এ চরের কৃষকেরা বেশ ভালোভাবেই জীবনযাপন করছিলো। এখন বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে তারা সবাই প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা এখন কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবে, কি খাবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

 

 

 

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত এক বছরের ব্যবধানে দুটি ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের ২৫০ হেক্টর অর্থাৎ ৬১৭ একর ফসলি জমি যমুনায় বিলিন হয়েছে। যেসব ফসলি জমি নতুন করে ভেঙ্গে যাচ্ছে সেসব জমির মালিকেরা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। তাই ভাঙ্গণরোধে কার্যকরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বলে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সারমিন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন রোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে যমুনার অভ্যন্তরের ভাঙনরোধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রকল্পের অনুমোদন নেই বলে জানান তিনি।